আজ থেকে শত বর্ষ পূর্বে এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সমাজ হিতৈষী কিছু ব্যক্তির উদ্যোগে এবং শিক্ষানুরাগী ও দানবীর জমিদার  ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী মহাশয়ের বদান্যতায় গড়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী    এ ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি ।
১৮৮০ সাল। ঈশ্বরগঞ্জ চৌকি আদালত স্থাপিত হয়। বর্তমান নান্দাইল,ঈশ্বরগঞ্জ ও গৌরীপুর উপজেলার বিশাল এলাকার দেওয়ানী মামলা নিষ্পত্তির জন্য একমাত্র বিচারালয়। তিনজন মুন্সেফ বিচার কাজ পরিচালনা করেন। শতাধিক আইনজীবী এ আদালতে আইন ব্যবসায় নিয়োজিত। তাদের অধিকাংশের বসবাস ঈশ্বরগঞ্জ সদরে। তৎকালে ঈশ্বরগঞ্জে তিনটি সরকারী পাট গুদাম ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকায় এবং থানার অন্যান্য কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের আবাসস্থল থানা সদরে থাকায়, এখানে ভাল একটি শিা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাই তৎকালীন আইনজীবীদের মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ  গ্রহন করা হয়। প্রাক্তন জাতীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট জয়নুল আবেদীন জায়েদী সাহেবের জবানীতে প্রাক্তন আইনজীবী শ্রী বিপিন চন্দ্র পন্ডিত ও জনাব আব্দুল হালিম খান সাহেবের নিকট জ্ঞাত হয়ে জানা যায় যে, শ্রী তাড়িনী কান্ত লাহিড়ী, বড়দা রঞ্জন রায়, সতীশ চন্দ্র ঘোষ প্রমুখ এডভোকেট  গণের নাম উদ্যোক্তাগনের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ।
আইনজীবীগনের মধ্যে পারস্পরিক আলাপ, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গের সাথে পারস্পরিক আলাপ, প্রভৃতি ধাপ অতিক্রমের এক পর্যায়ে গৌরীপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী মহাশয় একদিন ঈশ্বরগঞ্জে স্বীয় পরগণার তহসিল অফিস পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শন কালে স্থানীয় আইনজীবিগনের সাথে আরও এলাকার কিছু গণ্য মান্য ব্যক্তিবর্গসহ জমিদার মহাশয়ের সাথে সাাত করে  এলাকার প্রয়োজন ও তার পরিদর্শনের স্মারক হিসেবে এখানে একটি স্কুল স্থাপনের জন্য তাকে অনুরোধ করেন। শিক্ষানুরাগী জমিদার মহাশয় তাৎনিক ইতিবাচক সাড়া দিয়ে তার মায়ের নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্মতি জ্ঞাপন করেন। তিনি প্রয়োজনীয় জমিদানসহ প্রাথমিকভাবে আর্থিক ব্যায় মেটানোর জন্য স্থানীয় নায়েবকে এককালীন ও মাসিক একটি আর্থিক বরাদ্দের নির্দেশ প্রদান করেন বলে জানা যায়।
অতঃপর উল্লেখিত আইনজীবীগণ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিগণের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে জায়গা নির্বাচন, গৃহ নির্মান, শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯১৬ সালের শুরু থেকে ছাত্র ভর্তি করে,শিক্ষাকা র্যক্রম শুরু করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক বাবু কালী কিশোর গুহ রায় সহ সাত জন শিক্ষক , একজন অফিস সহকারী, একজন দপ্তরী ও একজন নৈশ প্রহরী নিয়ে বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।